অনেকের ধারণা, বুকে কফ জমা বা অনবরত কাশি হলেই কেবল ফুসফুসে সমস্যা হয়েছে। তবে ফুসফুসের কিছু রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কাশি ছাড়াও দেখা দিতে পারে। তাই কাশি নেই মানেই ফুসফুস সম্পূর্ণ সুস্থ—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, হাঁপানি, সিওপিডি, পালমোনারি ফাইব্রোসিস এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারের মতো রোগেও সব সময় কাশি প্রধান বা প্রাথমিক লক্ষণ নাও হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, বুকব্যথা বা অস্বাভাবিক ওজন কমার মতো উপসর্গও ফুসফুসের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
হাঁপানি
কাশি ছাড়াও হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকের মধ্যে সাঁইসাঁই শব্দ বা বুক চেপে ধরার মতো অনুভূতি হাঁপানির লক্ষণ হতে পারে। ব্যায়াম, ধুলাবালি ও বায়ুদূষণের সংস্পর্শে এলে কিংবা রাতে ও ভোরের দিকে এসব উপসর্গ বাড়তে পারে।
অনেকে এসব লক্ষণকে সাধারণ অ্যালার্জি বা শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি ভেবে এড়িয়ে যান। তবে বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ফুসফুসের ক্যানসার
ফুসফুসের ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। রোগ বাড়ার সঙ্গে কফে রক্ত, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া বা বারবার বুকে সংক্রমণের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে ধূমপায়ী বা দীর্ঘদিন ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে নতুন বা অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পালমোনারি ফাইব্রোসিস
পালমোনারি ফাইব্রোসিসে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত ও শক্ত হয়ে যায়। কাশি শুরু হওয়ার আগেই অনেকের শারীরিক সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা বুক ভার লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আগে যে কাজ সহজে করা যেত, সেসব কাজ করতে হঠাৎ বেশি ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সিওপিডি
সিওপিডির ক্ষেত্রে কাশি থাকতেই হবে এমন নয়। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা দৈনন্দিন কাজ করার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে ধূমপায়ীরা অনেক সময় এ ধরনের শ্বাসকষ্টকে বয়সের স্বাভাবিক প্রভাব বলে মনে করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
-
স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট বা বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া;
-
ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া;
-
অস্বাভাবিক বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া;
-
কফে রক্ত আসা বা বুকব্যথা;
-
বারবার বুকে সংক্রমণ হওয়া;
-
দৈনন্দিন কাজের সময় আগের তুলনায় বেশি শ্বাসকষ্ট হওয়া।
ফুসফুসের কোনো রোগ আছে কি না, তা শুধু কাশি আছে বা নেই—এমন একটি লক্ষণের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা যায় না। উপসর্গের ধরন, বয়স, ধূমপানের ইতিহাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা হয়।
জি বাংলা ডেস্ক